নব বর্ষের  শুভেচ্ছা

বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে ।

চৈত্র মাস টা কেমন যেন অবাঞ্ছিত এক অতিথির মতন, সবার মনে  ক্যালেন্ডার এর পাতা পাল্টানোর তাড়া। কেন বাবা, একটু নব রাত্রি করতে শেখো, একটু নিরামিষ খাও, তা না, পুরো চৈত্র মাস টাই পয়লা বৈশাখ এর মেনু খোঁজা, আর  ‘Bong Eats’  এর ভিডিও দেখে ঐ একটা দিনের  অপেক্ষা । আর প্রত্যেক বছর ওই এক প্রশ্ন, পয়লা বৈশাখ  14 th April না 15 th April ?  অনেকেই  বলেন আমরা বাংলা  ক্যালেন্ডার  ভুলতে বসেছি,  কথা টা পুরো সত্যি নয় । গুগল এ সব প্রশ্নের উত্তর আছে, তবু আজও অনেকেই ঘরে পঞ্জিকা রাখেন । পয়লা  বৈশাখ কবে, মহালয় কবে , পুজো কবে, এই প্রশ্ন গুলো বড় দামি। এই প্রশ্নের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে আমাদের বাঙালি মন,আমাদের  শেকড়ের টান।

আমরা হোলি খেলি,  আবার দোল পূর্ণিমার ভোরে এক মুঠ আবির হাতে প্রভাত ফেরি ও করি। আমরা “বসন্তে ফুল গাঁথলো আমার জয়ের মালা” গাই ,বা “বসন্ত এসে গেছে ” গাই , মনে আমাদের  বসন্তের রঙের ছোঁয়া লাগবেই লাগবে,প্রতি  বছর । যতই  বাঙ্গালির valentine  দিবস নিয়ে রসিকতা হোক, এই আমরাই মা সরস্বতী র আরাধনা তে ব্যাকুল হয়ে বই পত্র শিকে তে তুলে দি অন্তত এক দিনের জন্য । সময়ের  সাথে আমরা y-tube এ রবীন্দ্র  সঙ্গীত শুনি, কিন্তু গলায় সুর আমাদের হারিয়ে যায়নি, তাই তো আজও  আমরা সমবেত কন্ঠে গান গাই, তালে তাল মেলাই, আর রবীন্দ্র জয়ন্তী তে উৎসব করি ।

নিউ টাউন হোক বা নিউ ইয়র্ক, আমরা ” চিনি গো চিনি তোমারে ”  স্টাইল এ ঠিক  বাঙালি কে চিনে ফেলি । বাঁদর টুপি পরা না থাকলেও, বাঙালি কে টাইগার হিল টু সুইস অ্যালপস, সর্বত্র চেনা যায়। একেই বোধহয় বলে মাটির টান । আমার সকল বাঙালি, বা নট সো বাঙালি বন্ধু দের জানাই নব বর্ষের শুভেচ্ছা । বছর এর পর বছর কাটছে আর তা বয়সের জানান দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ভাবে । আজ সকাল এ ১৪৩১ কে ১৪০১ পড়লাম । এটা কী হলো ? সময় কি তাহলে আমাদের  জ্বালাতন এ  পিছন হাঁটতে শুরু করল ?  নাঃ তেমন  কিছু নয়, চোখে আমার চশমা টা ছিলো না , তাই এই বিভ্রাট ! বুঝুন তাহলে আমি কেমন বাঙালি !

এমন তর  বাঙালি বন্ধু কে ভালোবেসে  আবার রসগোল্লা পাঠাবেন না যেন, ইদানিং  রক্তের মিষ্টতা র  সাথে দৌড় চলছে, আমি প্রায় হেরেই গেছি, তাই আপনারা এক হাঁড়ি ভার্চুয়াল রসগোল্লা পাঠাবেন প্লিজ ।  আর হ্যাঁ, বৈশাখ মাসে আজকাল হাঁটু  জল ও থাকে না, গ্লোবাল warning মশাই, তাই মাথা ঠান্ডা রেখে, ইংরেজি তেই জানাই Happy Bengali New Year to  everyone.

নলেন এলো ঘরে।

আমি : বলি ও নলেন, নলেন রে, পৌষ মাস তো চলতে বসলো, তুই কি এই বচ্ছর আর আমার ঘরে আসবি না ?

নলেন: আমার এখন অনেক ডিমান্ড। ওই তোমার মতন যারা আমায় কফি র বোতলে বন্ধ করে রাখে , আর গুড় রুটি খায় , আমি তাদের বাড়ি যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আমার সময় কম।

আমি: তাহলে কি করতে হবে বল, তোকে ঘরে না আনলে যে মন বড় কষ্ট পায়। আর লোক জন ও তো ছি ছি করবে।

নলেন : আমায় ঘরে আনা অনেক খাটনির কাজ ।যুত করে পিঠে পুলি বানাতে পারবি ? দূধ পুলি, গোকুল পিঠে, পাটিসাপটা, পায়েস, আরো কত কি না মানুষ জানে। আরো আছে, আমায় আজকাল এক্সপোর্ট করা হয় বিদেশে। আমার অনেক কদর। তুই কি বানাবি বল, এত দিনের চেনা , তাই একটু ভাবছি।

আমি: অত তো আমি পারবো না রে নলেন। তারপর গুড় গুড় মন করলে রক্ত ও নাকি গুর গুর করে শুনেছি। তাই দুটো পদ অন্তত রাঁধবো, কথা দিলাম। আর সুন্দর করে তোর ছবি তুলে সকল কে দেখাবো।

নলেন: তোর চেয়ে ঢের বেশি ভালো ছবি তোলার লোক আমার আছে রে আছে। তাও তুই যখন এত করে বলছিস, তবে চল চলি তোর ঘরে।

আমি: ও নলেন, ও নলেন, বড় আনন্দ দিলি বাবা । বেঁচে থাক তুই রসে রসে টই টম্বুর হয়ে। ফিরে আয় আমাদের ঘরে বচ্ছর বচ্ছর। পিঠে পুলি তে , নতুন গুরের গন্ধে ভরে উঠুক বাঙালির প্রাণ।

পড়তে বসে

আমি পড়তে ভুলে গেছি, এমনটাই মনে হয় আজকাল। নাকের ডগায় চশমা থাকে বটে,তবে সেটা বেশি কাজে লাগে ফোন খুলে হাবি জাবি করতে। আচ্ছা আমি কী দেখতেও ভুলে যাচ্ছি, তা নইলে আমার মন ..ছবিতে ,কথাতে ভরে থাকে না কেনো ? আমি কি সত্যি ” ঘুমায় যেন চিত্র পটে আঁকা ” একজন হয়ে উঠছি ? এত গুলো প্রশ্নের যখন উত্তর খুঁজছি নিজের ভিতর, ঠিক এমনি সময় হাতে এলো এই বইটা, ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ‘। মৈত্রেয়ী দেবীর ‘ন হন্যতে ‘ সেই কবে মনে দাগ কেটেছিল, আজও সেই দাগ মোছেনি । ঋজু হয়ে উঠে বসলাম, এই বই আমায় পড়তেই হবে। এত দিন পড়ি নি , সেটাই দুঃখ ।

“ছাই হয়ে গিয়ে তবু বাকি যা রহিবে
আপনার কথা সে তো কহিবেই কহিবে ।”

এক মুঠো পলাশ

“সারা রাত দুই চোখের পাতা এক করতে পারিনাই”, এই কথাটা ছোটবেলায়  প্রাই শুনতাম আমার  দিদিমার মুখে । শুনলেই মনে হতো ‘বুড়ো মানুষ রা এমনি কথা কেনো বলে, এমন টাও হয় নাকি, নিশ্চয়ই বাড়িয়ে বলছে ।’ দিন কেটেছে, সেই দিদিমাও আর নেই, মাও আর নেই, তাই তাদের গিয়ে বলতে পারি না ‘হয় গো হয়,  ঠিক এরকম টা হয় ‘। আমি যে এখন অনেক রাত ওই দুই চোখের পাতা এক না করে কাটাই, এখন আমি বুঝি । দিদিমা না হতে পারি  কিন্তু দিদিমা হওয়ার বয়েস টা তো হয়েছে, তাই এই ব্যামো টাও অল্প অল্প শুরু হয়েছে ।

গত শনিবার পুরো রাত রাতের পাখির মতোন ড্যাব ড্যাব করে জেগে থাকলাম। সকাল হতেই  in house golfer কে বললাম, ‘আজ তোমার golf যাওয়া চলবে না।  আমাকে গাড়ি করে ড্রাইভ এ নিয়ে যেতে হবে, তারপর কোথাও ইচ্ছে হলে গাড়ি থেকে নেমে, আমরা হাঁটব, তারপর কচুরি- তরকারি ,জিলিপি আর চা  at Sharma Tea’। কেবল morning walk বললে কাজ হত কিনা জানিনা, কিন্তু ওই কচুরি জিলিপির টোপ টা কাজ করলো । তিনি একটু দোনা মনা করে রাজি হয়ে গেলেন । বেশ কিছু ক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরে আমি বললাম ‘এবার গাড়ি থামানো হক, এখানে অনেক গাছ, আমরা একটু হাঁটি চলো’।  

চালক গাড়ি থামালেন, আগে পিছনে করে নিপুণ ভাবে পার্ক করলেন। অধৈর্য আমি গাড়ির দরজা খুলে নেমে দাঁড়ালাম, আমার ভাবটা এমন যেন ওনার কারণে সিনেমার শো মিস হয়ে যাবে। চোখের সামনে সারি সারি পলাশ গাছ তখন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে, মন বলছে দে ছুট। আমার একটা বড় দোষ আছে, আমি যখন হাঁটি হন হন করে প্রায় দৌড়বার মতন করে হাঁটি, তাই আমার সাথে কেউ হাঁটতে চায় না। দেখে মনে হতেই পারে মহিলা বাস ধরার জন্যে দৌড় দিচ্ছেন। জোরে হাঁটি বটে, কিন্তু আমার মন কবি কবি ভাব নিয়ে প্রকৃতির ধীর গতিতে  চলার আনন্দের মধ্যে ডুবতে থাকে । কত কিছু দেখার থাকে চারি পাশে। মনে মনে হারিয়ে যেতে যেতে আমি গুন গুন  করে গেয়ে উঠি , ” রূপ  সাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ  রতন আশা করি ।” আমার পাশের মানুষ দু চার কদম পিছন পিছন আসতে থাকেন, তিনি আমার এই  sprint walking style এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বহুকাল আগে ।

আমি অবাক চোখে দেখি , পলাশ গাছের আগুন জলা রূপ, তার উল্টো দিকে গোলাপি  সাদার গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলে ভরা মাধবীলতার সারি , হলুদ রঙের কলকে  ফুলের ভারে নুয়ে পরা ডাল, আরো কত ফুল, যেন কেউ  অতি যত্নে সাজি সাজিয়ে অপেক্ষা করছে আমার। কলকে ফুল গুলো আমার গালে হালকা করে টোকা দিয়ে যায় যেনো । চলার পথের ধারে কত রঙের বাহার, চারিপাশে ছড়িয়ে পরে আছে অগুন্তি পলাশ।  মনে হয় আমার ওপর তাদের বড্ড অভিমান হয়েছে, এত দিন আসি নি বলে ।তাদের উজ্জ্বল কমলা  বর্ণের ফুল গুলো মাটিতে পরে ধুলো মাখা মাখি করে জানান  দিচ্ছে  আমাদের চলে যাবার দিন এসে গেছ,  বসন্ত চলে গেছে,  তুমি আসতে দেরী  করে ফেলেছ । মন টা কেমন যেন  উদাস হয়ে ওঠে আর ভাবে ‘ইশ, আর কয়েকদিন  আগে এলাম না কেনো ।’ আর ঠিক তখনই, যেন আমার  মনের  কথা বুঝে নিয়ে , মাটিতে পরে থাকা এক bougainvillea র ডাল আমায় ডাক দিয়ে, ফিক করে  হেসে বলে, ”ওমন মন খারাপ করিস না, আমাদের দিকে চেয়ে দেখ, কত রঙে  সারা বছর তোর পাশেই তো থাকি আমরা ,পাঁচিল এর গা বেয়ে উঠে তোকে দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকি !”  আরে  তাই তো, এই  Kagaz ke phul ( যাকে আমি মজা করে বউ gone বলে ডাকি) ও তো আমার বড় আদরের।  মায়ার টানের টানাপোড়েন , তার কি কোনো হিসাব আছে।  আমায় টানে আকাশ, আকাশের চাঁদ, তারা, সূর্য  ; আমায় টানে সমুদ্র, নদী, রঙের খেলা ; আমায় পাগল করে সবুজের নেশা, তবে কেনো পলাশ পলাশ করে কেঁদে মরি আজ। পলাশ  যেনো কোন পুরনো প্রেমিক, যার সাথে রয়ে গেছে কিছু না বলা কথা, তাই তো সে তার বুক ভরা অভিমান নিয়ে টুপ টুপ করে ঝড়ে পড়ছে।

হাঁটার  পথের এক পাশে খোলা সবুজ মাঠ , লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা সেই মাঠ । সেখানে টিকিট কেটে  ঢুকতে হয়, এত ভোরে সেই টিকিট  ঘর খোলেনা, তাই মানুষ জনও আসে না। ওই গেটের মধ্যেই সবুজ মাঠের ওপারে, ছড়িয়ে  ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে seven wonders of the world, ভোরের আলোয় ঝকঝক করছে , ছোট্ট এক পৃথিবী । আমার সেখানে যাওয়া হয় নি কোনোদিন।  আমি যে wonders of the world বড়  সহজে পেয়ে  যাই আমার চার পাশে । এই ঝড়ে পরা অভিমানী পলাশ এর বুকে , কলকে ফুলের নরম ঠোঁটের আদরে , আর মন মাতানো মাধবী লতার গন্ধে, এর মধ্যেই আমার শহর,আমার পৃথিবী, আর এক রাশ ভালবাসা ।

গরম আসছে, সঙ্গে করে আনবে ঝুড়ি ভরা কৃষ্ণ চূড়ায় মাতোয়ারা নীল আকাশ ; অমলতাস এর পাগল করা হলুদ ডালের হাত ছানি ; আধ ফোটা বেলি ফুলের মালা ; আর জুঁই – জাগা রাত । এই রে, কথায় কথায় আবার রাত জাগার কথা ওঠে  কেনো আমার মনে । বেশ তো হারিয়ে  যাচ্ছিলাম মনে মনে। আমার মগ্নতার জগত থেকে ফেরাতেই বোধহয়  পিছন থেকে  golfer  ডাক দিলেন, ” এবার কি ফিরবে?”  বুঝলাম অনেকটা পথ এসে গেছি উদাসী মনে হাঁটতে হাঁটতে। জোরে হাঁটি বলে অনেক টা বেশি  হাঁটা হয়ে যায়। ‘হ্যাঁ  চলো, এবার ফেরা যাক’ বলে about turn করি আমি ।  ফেরার পথে এক মুঠো পলাশ কুড়িয়ে নেওয়ার লোভ সামলাতে পারি না , তাদের দিকে আরো কিছুক্ষণ চেয়ে থাকার লোভ । গাড়ি তে উঠেই মনে পড়ে যায় , কচুরি-তরকারি আর জিলিপির প্রতিশ্রুতি, মনে হল golfer এর মুখে দেখলাম এক টুকরো হাসি ।মন টা বড় শান্ত  হয়ে গেছিল।  রাত জাগার ক্লান্তি আমায় কষ্ট দেয় না, রাত জাগা এই আমি ফোন খুলে গান চালিয়ে দি :

“আমার ভিনদেশী তারা…তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়, আমার একলা লাগে ভারী।”

Mishtir Dokan

Mithai is not just Mishti, it has a gastronomical chemistry,
And if you want to learn the origin, turn the pages of history.

Garma garam roshogolla, lazily swimming in a sweet pool,
The spongy melting delight, enough to make people drool.

Gulab jamun and Kalo-jaam are not at all the same,
Don’t get into a Mishti shop and say ‘what’s in a name’.

Kheer kodom and Cham-cham, coolly sitting side by side,
One with a mild flavor, the other too sweet on first bite.

Mihidana and Sitabhog, the dessert makers master stroke,
From Bardhaman to Kolkata, loved by every bhadralok.

Laddu and Darbesh, look alikes, but they are not brothers,
Jalebi and Amritti, two sisters from different mothers.

Sandesh hiding a little surprise in its heart is called Jolbhora,
To add variety to your chenna ask for Odissa’s Chana Pora.

And if you like it soft and melting, the name is Makha Sandesh,
Certainly a delightful entry, spreading soon in desh bidesh.

Mishti Doi in an earthen pot, Joy Nagar type Moa,
Malpua such beautifully golden brown, filled with soft khoa.

Pithe, puli, patishapta enters with winter’s divine Nolen Gur,
Aah to have these Mishtis on your plate take a Kolkata tour.

Continue reading

নির্বাসন

তুমি  নির্বাসনে গেছো, এ তোমার স্বেচ্ছা নির্বাসন।
কথার কোলাহল থেকে নির্বাসন, নিরন্তর গতি থেকে নির্বাসন
নীরোগ হওয়ার নির্বাসন, প্রিয় জন কে ভাল রাখার নির্বাসন
তুমি  নির্বাসনে গেছো, এ তোমার স্বেচ্ছা নির্বাসন।

তোমার অন্তরে লুকিয়ে থাকা গোপন যত ব্যাথা,
তাদের সাথে হবে আজ নতুন কিছু কথা। 
জরা জীর্ণের উর্ধে উঠে জ্বলবে যেদিন আলো
নতুন সূর্যের ছটায় হারিয়ে যাবে আঁধার রাতের কালো।

তোমার ঘরের বাইরে ঘুরে বেড়ায় তোমার ছোট মেয়ে
বন্ধ দরজার পিছনে তোমার উপস্থিতি খোঁজে চেয়ে চেয়ে
তোমার ঘরের জানলা দিয়ে দেখা যায় যে মাধবী লতা
হওয়ার টানে বয়ে আনে রোজ মধুর ফুলের মাদকতা
আজ সেই  সুবাসে তোমার প্রাণে জাগে না কোনো আশ
গন্ধে তোমার ঘর ভরে যায়, চোখের জলে ঝাপসা চারিপাশ।

রাত  জাগা এক পাখির ডাকে তুমি কবিতা লেখো
একা ঘরের বিছানায় তুমি স্বপ্ন ভোরের ছবি আঁকো
তুমি বেরিয়ে পরার স্বপ্ন দেখো, লক্ষ জনের ভিড়ের মাঝে
তুমি  জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন দেখো, সকাল বিকেল নতুন সাজে
পাহাড় শেষের উপত্যকায়, নদী যেখানে দৌড়ে বেড়ায়
তুমি রামধেনূ রঙ মাখিয়ে গায়ে, ছুটছ যেন রণপা পায়ে।

তুমি  নির্বাসনে গেছো, এ তোমার স্বেচ্ছা নির্বাসন
রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করে ,আর দুটো দিন থাকবে ঘরে,
যেদিন তুমি দরজা খুলে ডাকবে তাকে কোলের কাছে
ছুটে এসে তোমার মেয়ে লুকিয়ে পড়বে বুকের মাঝে।

তুমি  নির্বাসনে গেছো, এ তোমার স্বেচ্ছা নির্বাসন
তুমি বুক ভরে নিশ্বাস নেবে, এ খোলা of বাতাস তোমার 
তুমি  মানুষের পাশে গিয়ে  দাঁড়াবে, এ পৃথিবী সবার
তুমি  নির্বাসন থেকে ফিরেছো, সে ছিল তোমার স্বেচ্ছা নির্বাসন ।